Posts

Showing posts from 2025

বন্ধুত্বহীন এবং একাকীত্ব তার মাঝে নিজেকে ভাল রাখার চেষ্টা

Image
বেশ কিছুদিন পরে শখের নারীর সাথে চ্যাট হলো। আসলে সেদিন তার সাথে চ্যাটের পর ভেতর থেকে একটা উপলব্ধি হলো—যে কেউ যদি নিজে থেকেই সম্পর্কটা না চায়, সেখানে আমি অনুনয়-বিনয় করে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা কতটা যৌক্তিক? বুঝতে পারছিলাম, সে কিছুটা বিরক্ত হচ্ছে, তাই নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। হয়তো কিছুটা অভিমান থেকেই আর মেসেজ দিইনি, নিজেকে একটু আড়াল করেছি। তবে এর মানে এই নয় যে, তাকে একদম ভুলে গিয়েছি। হয়তো অনেক কিছু ভুলা যায় কিন্তু যে মানুষ একবার হৃদয়ে জায়গা করে নেয় তাকে ভুলে যাওয়া অসম্ভব। তবে হালকা অভিমান থাকতেই পারে, কিন্তু ভালোবাসা কখনো ফুরায় না কদিন ধরে তার সঙ্গে দেখা করার এক ধরনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যখন দেখলাম সে যেন ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে, তখন নিজেই ভাবলাম—এ অবস্থায় বারবার অনুরোধ করা আর যুক্তিসংগত নয়। তারচেয়ে বেশি কিছু বললে সেটা হয়তো স্বার্থপরতার মতো শোনাবে, যা আমি কখনোই চাই না। আমি চাই, প্রত্যেকেই নিজের সম্মান নিয়ে বাঁচুক, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারুক। সেই ভাবনা থেকেই আর মেসেজ দিইনি। তবে ভিতরে ভিতরে অনুভব করি অনেক কিছু—যার গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠি...

তার অপেক্ষায়...

Image
বেশ কিছুদিন তার সঙ্গে আর কথা হয় না, দেখা তো দূরের কথা — আসলে হবার কথাও না। তবুও মনটা বারবার আনচান করে, খুব করে কথা বলতে ইচ্ছে করে। যখন কারও মায়ায় পড়ে যাই, তখনই বোঝা যায়—তার সঙ্গে কথা বলতে না পারাটা কতটা কষ্টের, কতটা দুঃসহ। আমি জানি, ভালোবাসা কাকে বলে, সেটা আমি তার কাছ থেকেই শিখেছিলাম। সে খুব যত্ন করে ভালোবাসতে শিখিয়েছিল — তার মায়াবী আচরণ, নরম স্বর, মুগ্ধ করা চোখের চাহনি আমাকে আসক্ত করে তুলেছিল। প্রতিদিন কথা বলার একটা অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। এখন সেই অভ্যাসটাই এক অসহনীয় শূন্যতা। কিন্তু আজ সে নেই — আর আমি শিখতেই পারলাম না কীভাবে তাকে ভুলতে হয়। নিজেকে যতই সংযত রাখার চেষ্টা করেছি, শেষমেশ ব্যর্থ হয়েছি। একদিন সব বাধা ভেঙে সাহস করে লিখে ফেললাম — "তোমার সঙ্গে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে।" কুরবানির ঈদের একদিন পর, মিনিট খানেকের জন্য কথা হলো। মাত্র দু-এক মিনিট! কিন্তু এই সময়টুকু আমার কাছে অমূল্য ছিল। তাকে শুনেছি, তার আওয়াজ শুনেছি — এতেই যেন আমার নিঃশ্বাস ফিরে পেয়েছি। বললাম, "তোমাকে না দেখে শ্বাস নিতে পারি না, ভীষণ কষ্ট হয়। তোমার স্টোরি দেখি, তবুও মন ভরে না — বরং তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এই অনু...

তোমার অভাবে আমি প্রায় নিঃশ্বাসহীন

Image
ঈদ চলে গেছে আজ প্রায় দুই দিন হয়ে গেল। তবুও...তোমার সাথে আর কোনো কথা হয়নি। ঈদের আগের রাতে শুধু একবার "ঈদ মোবারক" বলেছিলাম—সেইটুকুই। যদিও সাড়া পেয়েছিলাম, তবুও জানি, আগে হলে ঈদের দিন হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও সময় করেও অন্তত এক দুই মিনিট কথা হতো, একটা হাসি আদান-প্রদান হতো। এবার তা-ও হলো না। তোমার ফেসবুক স্টোরিতে ঈদের সাজে অনেক ছবি দেখলাম, একের পর এক। কিন্তু কোনো একটা ছবিতে রিপ্লাই দেয়ার সাহস হলো না। মনে হলো—হৃদয়টাকে লোহার শিকলে বেঁধে রেখেছি, না চাইলেও আটকে রেখেছি সব আবেগ, সব ভালোবাসা। একসময় দুচারদিন কথা না বললেই তুমি নিজেই মেসেজ করতে, খোঁজ নিতে। আজ প্রায় দুই মাস—আগের মতো আর মেসেজ আসেনি। জানি, তুমি আমাকে ভালোবাসো না, কখনো হয়তো এমন চিন্তাও আসেনি। তবুও আগে নিয়মিত কথাবার্তা হতো, সুযোগ পেলে দেখা হতো। এখন, তুমি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছো। কিন্তু এতটা পাষাণ, এতটা কঠিন তুমি হয়ে উঠবে—তা কল্পনাতেও ছিল না। আমি এখন যেন নিঃশ্বাসহীন। স্টোরিতে তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে মনে মনে কথা বলি, কথা বলি সেই মানুষের সাথে—যে এখন কেবল স্মৃতির পাতায় বাস করে। মানুষ দূরে যায়, কিন্তু তুমি এতটা দূরে চলে যাবে ভাবিন...

তোমায় দেখেই মুগ্ধ আমি

Image
আমি নই ফুটন্ত সুবাসিত লাল গোলাপ, প্রজাপতির রঙিন ডানায় মুগ্ধতা জাগে না আজকাল। আমি নই নিরব পাহাড়ের সরব ঝর্ণাধারা, পাল তুলে নদী পাড়ি দেওয়া নৌকাও টানে না আর। আমি সুবিস্তৃত সাগরের বিশাল জলরাশি, সবুজে মোড়া দিগন্তজোড়া মাঠেও নেই বিস্ময় আমার। আমি গোধূলি লগ্নে প্রতীচীর রঙে রাঙা সূর্যাস্ত, উষা আলোয় ঝিকিমিকি শিশির কণাও রাখে না স্পর্শ। আমি বসন্তের কুহু ফুলেল সমারোহ নই, পূর্ণিমা রাতে মধুময় চাঁদেও হারাই না মন। আমি কিছুতেই মুগ্ধ হই না... না প্রকৃতির রঙে, না সৌন্দর্যের বিভায়। তবে— আমি অপলক মুগ্ধ হই, কেবল তোমায় দেখে। তোমার শিশুসুলভ ছেলেমানুষি, তোমার দুষ্টু চোখের হাসি, তোমার মায়াবী মুখ, আর সেই মধুর বাক্যধারা— এই সবকিছুতেই ডুবে থাকি আমি, প্রতিনিয়ত, নিঃশব্দে। তুমি যে অনন্য, অদ্বিতীয়, অতুলনীয়— তা আমি জানি… আর জানে আমার হৃদয়ের অন্তর্যামী।

পাব না জেনেও ভালবাসি তারে...

Image
আমি জানি, তাকে কখনোই আর ফিরে পাব না। জানি, সে এখন আমার জীবনের গল্পে নেই, তবুও তার প্রতি এক অদ্ভুত আসক্তি, এক মায়াবী টান যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ে না। তাকে পাব না জেনেও প্রতিদিন নতুন করে তাকে ভালোবেসে ফেলি। তার মুখটা মনে পড়ে, তার হাসিটা চোখে ভেসে ওঠে, আর বুকের ভেতরটা কেমন হাহাকার করে ওঠে। জানি, আমার ভালোবাসা আজও নিঃশব্দ, একতরফা। জানি, সে আর আগের মতো নেই — বদলে গেছে, দূরে চলে গেছে। তবুও কেন জানি না, আমি প্রতিদিন তাকে মিস করি। তাকে না দেখেও তার প্রতিচ্ছবি ঘিরে ধরে আমায়, তার না বলা কথাগুলো কান পাতলেই যেন শুনতে পাই। হয়তো আমি একা, হয়তো আমার অনুভূতিগুলোর কোনো জবাব নেই, তবুও তাকে ভুলতে পারি না। প্রতিদিন ইচ্ছে হয় — একবার যদি দেখা হতো! চুপচাপ তার পাশে বসে থাকতে, এক কাপ কফি হাতে নিয়ে পুরোনো সেই গল্পগুলোর মাঝে হারিয়ে যেতে। সেই চেনা চোখে আবার একবার তাকাতে, জানতে ইচ্ছে করে, সে কি এখনো মনে রাখে আমাদের শূন্য দুপুরগুলোকে? সে কি এখনো মনে রাখে সেই না বলা অনুভূতিগুলোকে? কিন্তু সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে — সে বদলে গেছে। কতদিন তার মুখ দেখিনি, তার কণ্ঠ শুনিনি, তার সাথে গল্প হয়নি। তবুও আমার ভেতরের আমি আ...

একতরফা প্রেম এবং অসমাপ্ত গল্প

Image
ভালবাসা… শব্দটি ছোট হলেও এর অনুভব আকাশসম। কারো জীবনে আসে পূর্ণতা নিয়ে, আবার কারো জীবনে রেখে যায় এক গভীর না-পাওয়ার মরমি দাগ। আমার জীবনেও সে এসেছিল—সুন্দর এক মায়ার মতো। কিন্তু সে ভালোবাসা ছিল ক্ষণিকের অতিথি, তবু রয়ে গেছে সারাজীবনের স্থায়ী আবেগ হয়ে। তাকে আমি ভালোবেসেছিলাম এমনভাবে, যেন পুরো পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য হার মানে তার একটুখানি হাসির কাছে। তার কথা, চোখের চাহনি, মুখভঙ্গি—সব কিছুতেই ছিল এক অভাবনীয় মাধুর্য। আমার কল্পনার নারীর প্রতিটি ছায়া যেন তার মধ্যেই বাস্তব হয়ে ফুটে উঠেছে। তার সাথে কথাবার্তা ছিল সীমিত, চ্যাটেও খুব বেশি নয়। তবু হৃদয়ের ভাষা তো আর শব্দের অপেক্ষা করে না। একদিন বলেছিলাম, “চলো দেখা করি।” সে রাজি হলো। বৈশাখী মেলায় প্রথম সাক্ষাৎ হবে—এই সিদ্ধান্ত। বলেছিলাম, “এত ভিড়ের মাঝে তোমাকে খুঁজে পাব কীভাবে?” সে এক রহস্যময় হাসি দিয়ে বলেছিল, “এই তো তোমার প্রথম পরীক্ষা।” অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—যখন আমি তার খোঁজে হাল ছেড়ে দিতে চাইছিলাম, তখন সে-ই আমার সামনে এসে দাঁড়াল। যেন আমার সব প্রশ্নের এক জীবন্ত উত্তর। তাকে প্রথম দেখে মনে হয়েছিল, সৃষ্টিকর্তা যেন সময় নিয়ে, ভালোবেসে, সমস্ত সৌন্দর্যের ছাঁচে ...

স্মৃতি চিহ্ন

Image
অবসরের ফাঁকে মোবাইল ঘাঁটছিলাম, অপ্রয়োজনীয় ছবিগুলো ডিলিট করছিলাম একে একে। হঠাৎ একটি ছবি চোখে পড়তেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধক করে উঠল। থমকে গেলাম। শত শত ছবির ভিড়ে এটিই যেন সবচেয়ে মূল্যবান, সবচেয়ে আপন। এই ছবির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার জীবনের এক অপূর্ব সময়—সেই কিছু মুহূর্ত, যা মনে পড়লেই হৃদয় নরম হয়ে আসে, চোখে জল জমে। আজ ঠিক একমাস হতে চলল—গেল মাসের এই দিনেই তাঁর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো যেন স্বপ্নের মতো। সেই সময়, সেই স্থান—সবকিছু এতটা নিখুঁত ছিল যে মনে হচ্ছিল, আমি যেন এক টুকরো স্বর্গে আছি। এমন অনুভব, এমন ভালোবাসা জীবনে ক’বারই বা আসে? এই ছবি তাই শুধু একটি ছবি নয়, বরং আমার জীবনের সবচেয়ে মুল্যবান অনুভবের স্মারক। এটা কখনও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়… হবেও না। আজ কতদিন হয়ে গেল—না কথা হয়, না দেখা হয়, না একটুখানি চ্যাট! নীরবতার এই দূরত্বটা যেন দিনকে দিনে আরও গভীর হয়ে উঠছে। যদি আগে জানতাম—ভুলের ক্ষমা হয় না, একটি ভুলের এমন চড়া মূল্য দিতে হয়, তাহলে বনি আদম হয়ে জন্মাতাম না কখনও। হয়তো এলিয়েন হতাম—অনুভূতিহীন, ভুলের ঊর্ধ্বে। অথবা ফেরেস্তা হয়ে আসতাম—নির্ভুল, নিঃস্পাপ। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমি তো শুধু এক মানুষ, ভুল করেছি—...

ভুল করলে মানুষটাই খারাপ হয়ে যায়?

Image
একটা ভুলের জন্য যদি কেউ চিরদিনের মতো ইগনোর করে দেয়, তাহলে কি বলার কিছু থাকে? আমরা তো সবাই মানুষ, কখনো না কখনো ভুল হতেই পারে। কিন্তু সেই ভুলের জন্য যদি ক্ষমা না মেলে, যদি অনুশোচনাও কাউকে ফিরে আনতে না পারে—তাহলে বড্ড কষ্ট হয়। হ্যাঁ, আমি ভুল করেছি। আমি সেটা স্বীকার করি। আমি অনুতপ্ত, আমি লজ্জিত। সময়ের চাপে বা আবেগের ভুলে যা ঘটেছে, সেটা ইচ্ছাকৃত ছিল না। তবুও যদি আমার অনুশোচনা মূল্যহীন হয়, তাহলে কি আর করার আছে? শুধু এটুকুই বলার ছিল—ভুলকে বুঝে নেওয়া আর মানুষকে সুযোগ দেওয়া অনেক বড়ো একটি মানবিকতা।

ভুল – মানুষ হবার প্রমাণ

Image
ভুল। ছোট একটি শব্দ, কিন্তু কত অর্থ, কত শিক্ষা, কত বেদনার সঙ্গে জড়িত! আমরা জীবনে যতই সচেতন হই না কেন, ভুল আমাদের সঙ্গ ছাড়ে না। ভুল কখনো আমরা করি না জেনেও করি, কখনো ইচ্ছে করেও করি। কখনো তা হয় হাস্যকর, কখনো তা হয়ে ওঠে মর্মান্তিক। তবে সব ভুলই একটা ব্যাপার নিশ্চিত করে— আমরা মানুষ। আমরা সবাই ভুল করি, কিন্তু ভুলের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিই আমাদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। কেউ ভুল করলে আমরা খুব সহজেই আঙুল তুলি, দোষ দিই, অপমান করি— কিন্তু নিজের ভুলগুলো ঢেকে রাখি নীরবে। আমরা ভুলকে অপমান মনে করি, লজ্জা মনে করি। অথচ ভুলই আমাদের শেখায়, গড়ে তোলে, বদলে দেয়। ভুল মানেই শেষ নয়—ভুল মানেই শুরু। শুধু শর্ত একটাই—ভুল থেকে শিখতে হবে। একই ভুল বারবার করলে তা আর শেখা থাকে না, সেটা হয়ে দাঁড়ায় অবহেলা। ভুল করা দোষের নয়। ভুল স্বীকার না করাই দোষ। ভুল করে ফেলা মানুষ হতে পারে একজন ভালো শিক্ষক, যদি সে ভুলের দায় নেয়, অনুশোচনায় পথ বদলায়। আমরা যদি একটু বেশি সহানুভূতিশীল হই, তাহলে অন্যের ভুলকে ঘৃণার নয়, সহযোগিতার চোখে দেখব। কারণ আজ যিনি ভুল করেছেন, আগামীকাল আমরাও সেই একই জায়গায় দাঁড়াতে পারি। ভুলকে ভয় নয়—ভুলকে ভালোবাসতে শিখুন। ...

মনের অজান্তে করা ভুল, আর সম্পর্কের ভাঙন...

Image
মনের অজান্তে করা ভুল, আর সম্পর্কের ভাঙন জীবনে আমরা অনেক সময় এমন কিছু করে ফেলি, যেটা বুঝে বা ইচ্ছা করে নয়—বরং মনের অজান্তেই ঘটে যায়। হয়তো কোনো একটি কথা, হয়তো কোনো এক আচরণ, হয়তো একটুখানি অবহেলা—এই ছোট্ট ভুলগুলোই কখনো কখনো পাহাড়সম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিশ্বাস, ভালোবাসা, সম্মান আর বোঝাপড়ার উপর। এগুলো গড়তে সময় লাগে, ধৈর্য লাগে। অনেক যত্নে, অনেক মুহূর্তের জমানো ভালোবাসায় একেকটা সম্পর্ক হয়ে ওঠে অমূল্য। কিন্তু কখনো কখনো, সেই সম্পর্কেই আমরা এমন কিছু বলি বা করি, যা অন্যজনকে না বলা কষ্ট দিয়ে যায়। আমরা বুঝতেও পারি না, আমাদের একটি শব্দ, একটি অবহেলা কতটা গভীরভাবে কাউকে আঘাত দিতে পারে। জীবনে অনেক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় শুধুমাত্র ভুল বোঝাবুঝি, অহংকার বা সময়মতো আন্তরিকতা না দেখানোর কারণে। অথচ সেই সম্পর্কটিকে একটু সময় দিলে, একটু শুনে নিলে, একটু বুঝিয়ে বললে হয়তো তা রক্ষা করা যেত। আমরা সবাই মানুষ, ভুল হতেই পারে। কিন্তু সেই ভুলের দায় নেওয়াটাও মানবিকতা। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল ভালোবাসা নয়, দরকার ক্ষমা, বোঝাপড়া আর নিজের ভুল স্বীকার করার মানসিকতা। তাই বলি—যখনই মনে হয় আপনি কার...

আসক্তি...

Image
"আসক্তি" কিছু মানুষ আসে জীবনে নীরব ঝড়ের মতো—অভ্যাস হয়ে যায়, প্রয়োজন হয়ে যায়, আর একসময় না চাইতেও আসক্তি হয়ে দাঁড়ায়। তাকে ছাড়া দিন শুরু হয় না, রাত শেষ হয় না। তার হাসি, তার কথার ভঙ্গি, এমনকি তার অনুপস্থিতিটাও অনুভব করি প্রতিটি নিঃশ্বাসে। নিজেকে বোঝাই—এটা শুধু একটা অভ্যাস, মনের ভুল। কিন্তু মনের সেই ভুলটাই সবচেয়ে সত্যি মনে হয়। আসক্তি মানে তার সঙ্গে না থেকেও তার ছায়ায় বাঁচা। যতই দূরে থাকুক, একটা অদৃশ্য সুতোর টানে জড়িয়ে রাখে। তাকে ভুলে যেতে চাই, আবার প্রতিবারই ফিরে যাই সেই স্মৃতির ঠিকানায়। এই ভালোবাসা নয়, আবার নিখাদ বন্ধুত্বও নয়—এ যেন এক অদ্ভুত টান, নাম না জানা এক মানসিক বন্দিত্ব। যেখান থেকে মুক্তি চাইলেও মুক্তি আসে না, আর মনও চায় না আসুক। এ এক মধুর টান....!

টক্সিক মানুষ থেকে দূরে থাকাটা আত্মপ্রতিরক্ষার অংশ...

Image
সব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দরকার নেই—বিশেষ করে যদি সেটা মানসিক শান্তি নষ্ট করে। টক্সিক মানুষরা সবসময় আপনাকে দোষারোপ করবে, আপনার সফলতায় ঈর্ষান্বিত হবে, আর আপনার আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। তারা নিজের ভুলগুলো ঢেকে রাখতে অন্যকে দোষ দেয়, সবসময় মনোযোগের কেন্দ্রে থাকতে চায়, এবং আপনার প্রতিটি সাফল্যকে তুচ্ছ করে। টক্সিক মানুষরা আপনাকে ধ্বংস করার আগেই, তাদের থেকে দূরে সরে যান। সব সম্পর্ক রাখার নয়—কিছু সম্পর্ক ছাড়াও জীবন অনেক শান্তিপূর্ণ হয়। নিজেকে ভালোবাসুন, সীমা টানুন। আত্মসম্মান বিসর্জন নয়, সুরক্ষা প্রয়োজন। ভালোবাসা মানেই চোখ বন্ধ করে সহ্য নয়। যদি সে আপনাকে ছোট করে, সন্দেহ করে, কন্ট্রোল করে—তবে সেটা ভালোবাসা নয়, টক্সিকিটি। ভালোবাসা মুক্তি দেয়, বোঝা নয়। নিজের ভালোটা আগে ভাবুন। টক্সিক মানুষ থেকে দূরে থাকুন। এটা অহংকার নয়—এটা আত্মসম্মান। নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন। স্মার্ট হন, সেফ থাকুন। টক্সিক মানুষদের 'না' বলতে শিখুন। টক্সিক হলে, ক্লোজ নয়—ব্লক! মানসিক শান্তির সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ না।

প্রিয় মানুষের কাছে ফিরে যাওয়া...

Image
কখনো কখনো আমরা প্রিয় মানুষের কাছ থেকে দূরে যেতে চাই — হয়তো অভিমান থেকে, হয়তো আত্মসম্মান বাঁচাতে। মনে হয়, দূরে গেলে নিজের ভেতরের ভার হালকা হবে। কিন্তু সত্যি কি পারি? প্রতিটি দূরে যাওয়ার চেষ্টাই শেষমেশ ব্যর্থ হয়, কারণ হৃদয়ের টানটা কখনোই মিথ্যে হয় না। শেষমেশ আবার ফিরে যাই সেই চেনা মুখটার কাছে, সেই কণ্ঠস্বরের কাছে, যেখান থেকে দূরে যাওয়ার কথা ভাবাটাই ছিল ভুল। প্রিয় মানুষ মানে তো একরাশ প্রশ্রয়, অভিমান আর ভালোবাসার মিশেল... যে ফিরে আসে, সে হারেনি— সে ভালোবাসার জয় নিয়ে ফিরে আসে।

বিশ্বাস

Image
বিশ্বাস—আমার কাছে এক অমূল্য অনুভব! এই পৃথিবীতে কিছু অনুভূতি থাকে, যেগুলো ভাষায় পুরোটা প্রকাশ করা যায় না। তার মধ্যে অন্যতম হলো "বিশ্বাস"। যখন কেউ আমাকে বিশ্বাস করে, তখন মনে হয় আমি তার জীবনের একটি নিরাপদ আশ্রয়। এই অনুভূতিটাই আমার মন ছুঁয়ে যায়। আমি বিশ্বাস ভাঙতে পারি না। আর সেটা কখনো করতেও চাই না। কারণ, কারও বিশ্বাস ভেঙে দেওয়া মানে তার হৃদয় ধুসর অন্ধকারে ঢেলে দেওয়া। আমি সবসময় চেষ্টা করি সবাইকে সম্মানের সাথে কথা বলতে। মানুষের সাথে আচরণে নম্রতা আর সৌজন্য বজায় রাখা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি এমন কেউ নই, যে নিজের কথা বলার ছলে অন্যের মনে কষ্ট দিয়ে বসি। কেউ কষ্ট পেলে, আমার নিজেরই ঘুম হারাম হয়ে যায়। মানুষের মনকে মূল্য দিই, তাদের অনুভবকে শ্রদ্ধা করি। এই জীবনে যা অর্জন করতে চাই, তার মধ্যে একটা বড় অংশ জুড়ে আছে মানুষের মন জয় করার ইচ্ছা। আমার কাছে ভালোবাসা আর সম্মান, বিশ্বাসের ওপর গড়ে ওঠে। আর সেই বিশ্বাস ভেঙে ফেলাটা, আমি নিজের অপমান বলেই মনে করি।  আমি বিশ্বাস করি, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বন্ধনই সবচেয়ে শক্তিশালী।

জোর করে সম্পর্ক হয়না....

Image
সম্পর্ক জোর করে হয় না… আসলে সম্পর্ক মানে শুধুই একসাথে থাকা নয়। সম্পর্ক মানে একে অপরকে বোঝা, অনুভব করা, শ্রদ্ধা করা। জোর করে কখনো ভালোবাসা হয় না। অনুরোধ করে, অনুনয়-বিনয় করে কাউকে পাশে রাখা যায় না। কিছু সময়ের জন্য হয়তো কারও সাথে থাকা যায়, কিন্তু তা টেকে না। কারণ, সত্যিকারের সম্পর্ক তৈরি হয় তখনই, যখন দুটি হৃদয় একসাথে একই ছন্দে ধ্বনিত হয়। যখন দু’জন মানুষ একে অপরের অনুভব বুঝে নিতে শেখে—না বললেও অনুভব করতে পারে ভালোবাসা, দুঃখ, অভিমান। একতরফা চেষ্টায় কখনোই সম্পর্ক বাঁচে না। ভালোবাসা তখনই প্রকৃত হয়ে ওঠে, যখন তা আসে উভয় দিক থেকে—স্বতঃস্ফূর্তভাবে, নিঃস্বার্থভাবে। তাই কাউকে জোর করে আটকে রাখার চেষ্টা নয়, বরং নিজের ভালোবাসা, সম্মান, ও সততার মাধ্যমে এমন একটি জায়গা তৈরি করো—যেখানে সে নিজে থেকেই থাকতে চায়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চাবিকাঠি হলো সম্পর্কের মধ্যে হৃদয়ের সম্পূর্ণ অংশীদারিত্ব।

তিউনিসিয়ায় এক সপ্তাহ

Image
"বয়সের সাথে বুদ্ধি আসে,  ভ্রমণ এর সাথে অভিজ্ঞতা আসে" "পুরো পৃথিবী একটি বই, এবং যারা ভ্রমণ করে না তারা কেবল এর একটি পৃষ্ঠা পড়ে" উক্তিগুলো কোথায় যেন পড়েছিলাম টিক মনে নেই। আসলে প্রতিটি মানুষের ভ্রমণ করা দরকার যদি তার ইচ্ছা এবং সামর্থ্য থাকে। সত্যেন্দনাথ দত্তের কবিতায় পড়েছিলাম "জোটে যদি মোটে একটি পয়সা খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি' দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী!"  আজকের জামানায় ফুল না কিনে ভ্রমণে যাইও হে সৌখিনদারী! হোক সে ভ্রমণ দেশে অথবা দেশের বাইরে নির্ভর করে সামর্থ্যের উপর। ফুল থেকে শুধু সুভাষ পাওয়া যায় আর ভ্রমণে অভিজ্ঞতা। প্রতি বছর কোন না কোন দেশ ভ্রমণে যাওয়া হয় সেই ধারাবাহিকতায় এবারের সফর ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায়। দেশটির আয়তন বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা বড় এবং জনসংখ্যা মাত্র ১কোটি ২০ লাখ। মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়ে দ্বিগুণ। জনসংখ্যা কম হলে মাথাপিছু আয় বেশি হয় এটি স্বাভাবিক। আয়ের প্রধান উৎস অলিভ অয়েল, কার্পেট এবং ট্যুরিজম। দেশেটি ফ্রান্সের কলোনাইজ হওয়ায় বলা যায় রাজধানী তিউনিস শহর অনেকটা পেরিসের আদলের তৈরি। তাদের ভাষা...

বরিশালে ২দিন

Image
দেশের একেকটা অঞ্চল একেক রকমের সৌন্দর্য। গেলবার যশোর গিয়েছিলাম সেখানে বাহারি রঙের ফুলের সমাহার দেখেছিলাম। যেখান থেকে সারা দেশজুড়ে ফুল সাপ্লাই হয়। বলা যায় এ যেনো আরেক নেদারল্যান্ড!  আমরা জমিনে ধান লাগাই আর যশোর গদখালি, ঝিকরগাছায় চাষীরা ফুল চাষ করে। তাদের প্রজেক্টগুলো দেখে বাড়ির কথা ভুলে গেছিলাম। অসম্ভব ভালো লেগেছিল। বেশ কিছু ছবি দিয়েছিলাম হয়তো অনেকে দেখেছেন। প্রমোদ তরীতে বরিশাল আসলাম সে এক মজার অভিজ্ঞতা। লঞ্চে বহুবার ভ্রমণ করলেও এমন উপভোগ কখনও হয়নি। রাতে কেবিনের বারান্দায় চেয়ারে বসে মৃদু বাতাস যখন গায়ে লাগছিল মনে হচ্ছিল বেহেস্তি হাওয়া খাচ্ছি। যদিও দিনের বেলা গরমে অসুস্থ হওয়ার মতো অবস্থা ছিলো, বেহেস্তি বাতাস আর এত বিশাল লঞ্চ চড়ে এক্সাইটমেন্টে ঐ কষ্ট ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক।  আমি এখন পিরোজপুর, নাজিরপুর উপজেলায়। এই এলাকার সৌন্দর্য মন কাড়ার মতো। মজার ব্যাপার হলো এখানে জল ও স্থলপথ উভয়টাই পাশাপাশি। প্রত্যেকটি বাড়ি সামনে একটি খাল বয়ে গেছে এবং সে খালটি সমুদ্রের সাথে সংযুক্ত যার ফলে জোয়ার-ভাটা হয়। ভাটার সময় মানুষকে রাতে টর্চ জ্বালিয়ে মাছ শিকার করতে দেখছি। আমার কাছে ব্যাপারটি দারুণ উপভোগ্য ল...

কুশিয়ারায় লঞ্চ ভ্রমনের দিনগুলো

Image
শীতের সকাল। কুয়াশায় সামনের কিছুই দেখা যাচ্ছিলনা। বাড়ী থেকে প্রায় মাইল খানেক পায়ে হেঁটে হাসপাতালের ঘাট থেকে ৮টার লঞ্চে উঠলাম শেরপুর যাব। খুব সম্ভবত ফরহাদ, কামাল বা এম ভি পারভিন নামের এই তিনটা থেকে যে কোন একটায় উঠেছিলাম। উপরে উঠে কেবিনে দেখলাম এক ভদ্রলোক কাশ্মীরি চাদর গায়ে দিয়ে মাথা মুড়িয়ে লাম্বা হয়ে শুয়ে আছেন। আমিও বিপরীত পাশের সিটে ঠাণ্ডা বাতাসের জন্য দরজা জানালা বন্ধ করে বসে রইলাম।  ততক্ষণে ইনাতগঞ্জের ঘাটে লঞ্চ ভিড়াইল। আরেক মুরব্বি টাইপের এক ভদ্রলোক এসে কেবিনে ঢুকলেন। তিনিও সিটের এক কোণায় চুপচাপ বসে আছেন। নীরবতা ভাঙানোর জন্য উনি আমার পরিচয় জানতে চেয়ে গপসপ করতে লাগলেন। আমাদের কথাবার্তা শুনে শুয়ে থাকা লোকটির ঘুম ভেঙ্গে গেল। ইশশিরে! ঘুমাইতে পারলামনা বলে উনি উঠে বসলেন। আমরাও যে আরামে বসেছিলাম তা না। আমার পাশে বসা ভদ্রলোক বলেই ফেললেন আপনার নাক ডাকার কারণে আমরাও আরামে বসতে পারিনি।  বলা যায় যে উভয়ের মধ্যে কিছুটা মৃদু রাগের স্বরে কথা চলছিল। আমার কিছু বলার ছিলনা বাচ্চা মানুষ, শুধু বলতেছিলাম চাচা বাদদেন। যাইহোক একসময় উভয়ের মাথা ঠাণ্ডা হল। একে অপরের পরিচয় জানতে চাইলেন। একজন বললেন, আমার ...