তোমার অভাবে আমি প্রায় নিঃশ্বাসহীন
ঈদ চলে গেছে আজ প্রায় দুই দিন হয়ে গেল। তবুও...তোমার সাথে আর কোনো কথা হয়নি। ঈদের আগের রাতে শুধু একবার "ঈদ মোবারক" বলেছিলাম—সেইটুকুই। যদিও সাড়া পেয়েছিলাম, তবুও জানি, আগে হলে ঈদের দিন হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও সময় করেও অন্তত এক দুই মিনিট কথা হতো, একটা হাসি আদান-প্রদান হতো। এবার তা-ও হলো না।
তোমার ফেসবুক স্টোরিতে ঈদের সাজে অনেক ছবি দেখলাম, একের পর এক। কিন্তু কোনো একটা ছবিতে রিপ্লাই দেয়ার সাহস হলো না। মনে হলো—হৃদয়টাকে লোহার শিকলে বেঁধে রেখেছি, না চাইলেও আটকে রেখেছি সব আবেগ, সব ভালোবাসা।
একসময় দুচারদিন কথা না বললেই তুমি নিজেই মেসেজ করতে, খোঁজ নিতে। আজ প্রায় দুই মাস—আগের মতো আর মেসেজ আসেনি। জানি, তুমি আমাকে ভালোবাসো না, কখনো হয়তো এমন চিন্তাও আসেনি। তবুও আগে নিয়মিত কথাবার্তা হতো, সুযোগ পেলে দেখা হতো। এখন, তুমি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছো। কিন্তু এতটা পাষাণ, এতটা কঠিন তুমি হয়ে উঠবে—তা কল্পনাতেও ছিল না।
আমি এখন যেন নিঃশ্বাসহীন। স্টোরিতে তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে মনে মনে কথা বলি, কথা বলি সেই মানুষের সাথে—যে এখন কেবল স্মৃতির পাতায় বাস করে।
মানুষ দূরে যায়, কিন্তু তুমি এতটা দূরে চলে যাবে ভাবিনি। মানুষ নিজেকে গুটিয়ে নেয়, কিন্তু তুমি এভাবে দেয়াল তুলে দাঁড়িয়ে যাবে ভাবিনি।
আমার হৃদয়ে যেন অবিরাম রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কলিজাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে তোমার শূন্যতায়, নিঃসঙ্গতায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয় আজকাল। আমিও একটা মানুষ, একটা হৃদয়ের মানুষ।
তোমার কাছে কি মানুষ হিসেবে কোনো মূল্য আশা করতে পারিনা?
জীবনের এতটা পথ পেরিয়ে কোনো মানুষের মাঝে এতটা টান অনুভব করিনি—যতটা তোমার প্রতি অনুভব করেছি।
আসমান আর জমিন যেমন এক হতে পারে না, ঠিক তেমনি তুমি আমি এক হওয়া আকাশ কুসুম কল্পনা। তবুও তোমার প্রতি যে মায়া জন্মেছে, তার কোনো শেষ নেই—তাকে উপড়ে ফেলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের এক স্নিগ্ধ রেখায় বাঁধা ছিল। কখনো সীমা অতিক্রম করিনি। হ্যাঁ, হয়তো ভুল করেছি। কিন্তু বলো তো, একটা ভুলের জন্য এমন দূরত্ব, এমন অবহেলা—এতটা কঠোর শাস্তি কি ন্যায্য?
গত দুইদিন ধরে তোমার স্টোরি দেখছি, আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না। যেন পাগল হয়ে গেছি তোমাকে একটিবার দেখার জন্য।
প্লিজ, আমাকে ক্ষমা করো।
তোমার থেকে এতটা দূরে সরিয়ে দিও না।
Comments
Post a Comment