বরিশালে ২দিন

দেশের একেকটা অঞ্চল একেক রকমের সৌন্দর্য। গেলবার যশোর গিয়েছিলাম সেখানে বাহারি রঙের ফুলের সমাহার দেখেছিলাম। যেখান থেকে সারা দেশজুড়ে ফুল সাপ্লাই হয়। বলা যায় এ যেনো আরেক নেদারল্যান্ড! 
আমরা জমিনে ধান লাগাই আর যশোর গদখালি, ঝিকরগাছায় চাষীরা ফুল চাষ করে। তাদের প্রজেক্টগুলো দেখে বাড়ির কথা ভুলে গেছিলাম। অসম্ভব ভালো লেগেছিল। বেশ কিছু ছবি দিয়েছিলাম হয়তো অনেকে দেখেছেন।

প্রমোদ তরীতে বরিশাল আসলাম সে এক মজার অভিজ্ঞতা। লঞ্চে বহুবার ভ্রমণ করলেও এমন উপভোগ কখনও হয়নি। রাতে কেবিনের বারান্দায় চেয়ারে বসে মৃদু বাতাস যখন গায়ে লাগছিল মনে হচ্ছিল বেহেস্তি হাওয়া খাচ্ছি। যদিও দিনের বেলা গরমে অসুস্থ হওয়ার মতো অবস্থা ছিলো, বেহেস্তি বাতাস আর এত বিশাল লঞ্চ চড়ে এক্সাইটমেন্টে ঐ কষ্ট ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক। 

আমি এখন পিরোজপুর, নাজিরপুর উপজেলায়। এই এলাকার সৌন্দর্য মন কাড়ার মতো। মজার ব্যাপার হলো এখানে জল ও স্থলপথ উভয়টাই পাশাপাশি। প্রত্যেকটি বাড়ি সামনে একটি খাল বয়ে গেছে এবং সে খালটি সমুদ্রের সাথে সংযুক্ত যার ফলে জোয়ার-ভাটা হয়। ভাটার সময় মানুষকে রাতে টর্চ জ্বালিয়ে মাছ শিকার করতে দেখছি। আমার কাছে ব্যাপারটি দারুণ উপভোগ্য লাগছিল। যে দিকে তাকাই বর্ষাকালের একটা ফীল পাই।  
ইউরোপের দেশগুলোতে এপ্রিল মাসে চেরী ব্লসম ফুটে আর এখনে বরিশালি আমড়ার ফুল। প্রতিটি বাড়ির উঠোনে দু'একটা আমড়া গাছ থাকবেই। 
এখানে ধান ক্ষেতে পানি সেচ দিতে হয়না জোয়ারের পানিতে জমি তলিয়ে যায়। কত ভাগ্যবান ওরা। 
আসলে আল্লাহ পাক একেক জায়গায় একেক রকম নেয়ামত দিয়ে ভরপুর করে রেখেছেন। আমরা আল্লাহর কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করতে পারি?

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বাস থেকে অবিশ্বাস

তার অপেক্ষায়...

একতরফা প্রেম এবং অসমাপ্ত গল্প