বন্ধুত্বহীন এবং একাকীত্ব তার মাঝে নিজেকে ভাল রাখার চেষ্টা
বেশ কিছুদিন পরে শখের নারীর সাথে চ্যাট হলো। আসলে সেদিন তার সাথে চ্যাটের পর ভেতর থেকে একটা উপলব্ধি হলো—যে কেউ যদি নিজে থেকেই সম্পর্কটা না চায়, সেখানে আমি অনুনয়-বিনয় করে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা কতটা যৌক্তিক? বুঝতে পারছিলাম, সে কিছুটা বিরক্ত হচ্ছে, তাই নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। হয়তো কিছুটা অভিমান থেকেই আর মেসেজ দিইনি, নিজেকে একটু আড়াল করেছি। তবে এর মানে এই নয় যে, তাকে একদম ভুলে গিয়েছি। হয়তো অনেক কিছু ভুলা যায় কিন্তু যে মানুষ একবার হৃদয়ে জায়গা করে নেয় তাকে ভুলে যাওয়া অসম্ভব। তবে হালকা অভিমান থাকতেই পারে, কিন্তু ভালোবাসা কখনো ফুরায় না
কদিন ধরে তার সঙ্গে দেখা করার এক ধরনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যখন দেখলাম সে যেন ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে, তখন নিজেই ভাবলাম—এ অবস্থায় বারবার অনুরোধ করা আর যুক্তিসংগত নয়। তারচেয়ে বেশি কিছু বললে সেটা হয়তো স্বার্থপরতার মতো শোনাবে, যা আমি কখনোই চাই না। আমি চাই, প্রত্যেকেই নিজের সম্মান নিয়ে বাঁচুক, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারুক। সেই ভাবনা থেকেই আর মেসেজ দিইনি। তবে ভিতরে ভিতরে অনুভব করি অনেক কিছু—যার গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন।
আমি আজকাল আমার সব বন্ধু-বান্ধব, আড্ডা, কথাবার্তা—সব কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। কারো সঙ্গে আর তেমন একটা মিশি না, মন খুলে কথাও বলি না। কারণ, আমি দেখেছি বেশিরভাগ মানুষই প্রয়োজনে কাছে আসে, প্রয়োজনে ব্যবহার করে, তারপর দূরে সরে যায়।
তবে এর মাঝে একটা মানুষকে পেয়েছি, যার কাছ থেকে কিছু পাই বা না পাই—যেটুকু পাই, তা হলো সম্মান। আর এই সম্মানই আমার কাছে অনেক বড়। আমিও চেষ্টা করি, তার প্রতি সেই সম্মানের মূল্য রাখতে, কখনোই যেন কমতি না হয়।
আমি অনেকবার বলেছি—তার বিনয়, তার নম্রতাই আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কিন্তু এসব কথা আমি তাকে ঠিকভাবে বোঝাতে পারি না। হয়তো সে বোঝেও, কিন্তু হয়তো কোনো সম্পর্কে জড়াতে চায় না।
তবু গতকাল তার সঙ্গে কিছুক্ষণ চ্যাটে যে মানসিক প্রশান্তি পেয়েছি, তা ভাষায় বোঝানো যায় না। যেন সে আমার মনের শান্তির এক অমূল্য ওষুধ—একটা আশ্রয়, যেখানে মন খুলে নিঃশ্বাস নিতে পারি।
ইদানীং সে একা হয়ে গেছে—সব বান্ধবী, সব সম্পর্ক থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। একের পর এক ধোঁকা খেয়ে এখন সে বন্ধুহীন, নিঃসঙ্গ। কাউকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না। আমি বুঝতে পারি—কারণ যাকে ভালোবাসি, তাকে অন্তত কিছুটা তো চেনা যায়।
তার এই নীরবতা আমি স্পষ্ট দেখতে পাই।
আসলে আমাদের এক বড় ভুল হলো—আমরা যাকে ভালোবাসি, তার পেছনে অগণন সময় আর আবেগ ব্যয় করি; অথচ যে আমাদের ভালোবাসে, তার প্রতি আমরা তেমন গুরুত্বই দিই না।
এই উল্টো ভালোবাসার হিসাবই একসময় আমাদের ঠকায়। তখন আমরা শুধু কষ্ট পাই, আর ধীরে ধীরে কারও ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি
আমি জানি, তার সঙ্গে আমার মাঝে যোজন যোজন দূরত্ব। তবুও আমি হতাশ হইনি, নিরাশও নই। কারণ আমি চিরকালই আশাবাদী একজন মানুষ।
আমি বিশ্বাস করি—হয়তো কোনো একদিন সে বলবে, 'চলো, চা-কফি খাই, গল্প করি, একটুখানি নির্ভার হয়ে আড্ডা দেই।'
আমি আরও বিশ্বাস করি—হয়তো কোনো একদিন সে বলবে, 'চলো, লং ড্রাইভে যাই... দূরে কোথাও, যেখানে কেবল আমরা দুজন, আর নিরবতা গান গায়।'
এই ছোট ছোট স্বপ্নগুলোই আমাকে বাঁচিয়ে রাখে।
সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, যেন তিনি আমার এই নিরব, নিঃশব্দ মনোবাসনাগুলো পূরণে সহায় হন।
Comments
Post a Comment