Posts

বিশ্বাস থেকে অবিশ্বাস

Image
কাউকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসাটা একটা ঝুঁকির খেলা। অনেক দ্বিধা পেরিয়ে, পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করে, নিজের ভেতরের ভয়কে চাপা দিয়ে যখন কেউ একজনের দিকে এগিয়ে যায়, তখন সে শুধু সময় দেয় না, নিজেকেও দেয়। কথায়, দেখায়, ওয়াদায় গড়ে ওঠে একটা পুরো পৃথিবী। তারপর একদিন বিচ্ছেদ হয়। আর সেই পৃথিবীটা ভেঙে না পড়ে বরং মাথার ভেতর আটকে যায়। রাতের নিস্তব্ধতায় পুরনো কথাগুলো ফিরে আসে, ঘুম আসে না, অথচ ভোলাও যায় না। এরপর অনেকেই সিদ্ধান্ত নেয় আর না। নতুন কাউকে চেনার দরকার নেই, কথা বলার দরকার নেই। কিন্তু আসল কথা হলো, মানুষ আসলে দুটো ভুল করে। প্রথম ভুল, ভুল মানুষকে বিশ্বাস করা। দ্বিতীয় ভুল, সেই ক্ষতের ভয়ে সঠিক মানুষকেও অবিশ্বাস করা। একটা পুরনো ট্রমা, কিংবা আবার স্মৃতির বোঝা জমে যাওয়ার ভয়, এই দুটোই মানুষকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। সে আর কাউকে কাছে আসতে দেয় না, কারণ সে ভাবে এটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু হয়তো এটাই সবচেয়ে বড় একাকীত্ব।

বন্ধুত্বহীন এবং একাকীত্ব তার মাঝে নিজেকে ভাল রাখার চেষ্টা

Image
বেশ কিছুদিন পরে শখের নারীর সাথে চ্যাট হলো। আসলে সেদিন তার সাথে চ্যাটের পর ভেতর থেকে একটা উপলব্ধি হলো—যে কেউ যদি নিজে থেকেই সম্পর্কটা না চায়, সেখানে আমি অনুনয়-বিনয় করে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা কতটা যৌক্তিক? বুঝতে পারছিলাম, সে কিছুটা বিরক্ত হচ্ছে, তাই নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। হয়তো কিছুটা অভিমান থেকেই আর মেসেজ দিইনি, নিজেকে একটু আড়াল করেছি। তবে এর মানে এই নয় যে, তাকে একদম ভুলে গিয়েছি। হয়তো অনেক কিছু ভুলা যায় কিন্তু যে মানুষ একবার হৃদয়ে জায়গা করে নেয় তাকে ভুলে যাওয়া অসম্ভব। তবে হালকা অভিমান থাকতেই পারে, কিন্তু ভালোবাসা কখনো ফুরায় না কদিন ধরে তার সঙ্গে দেখা করার এক ধরনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যখন দেখলাম সে যেন ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে, তখন নিজেই ভাবলাম—এ অবস্থায় বারবার অনুরোধ করা আর যুক্তিসংগত নয়। তারচেয়ে বেশি কিছু বললে সেটা হয়তো স্বার্থপরতার মতো শোনাবে, যা আমি কখনোই চাই না। আমি চাই, প্রত্যেকেই নিজের সম্মান নিয়ে বাঁচুক, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারুক। সেই ভাবনা থেকেই আর মেসেজ দিইনি। তবে ভিতরে ভিতরে অনুভব করি অনেক কিছু—যার গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠি...

তার অপেক্ষায়...

Image
বেশ কিছুদিন তার সঙ্গে আর কথা হয় না, দেখা তো দূরের কথা — আসলে হবার কথাও না। তবুও মনটা বারবার আনচান করে, খুব করে কথা বলতে ইচ্ছে করে। যখন কারও মায়ায় পড়ে যাই, তখনই বোঝা যায়—তার সঙ্গে কথা বলতে না পারাটা কতটা কষ্টের, কতটা দুঃসহ। আমি জানি, ভালোবাসা কাকে বলে, সেটা আমি তার কাছ থেকেই শিখেছিলাম। সে খুব যত্ন করে ভালোবাসতে শিখিয়েছিল — তার মায়াবী আচরণ, নরম স্বর, মুগ্ধ করা চোখের চাহনি আমাকে আসক্ত করে তুলেছিল। প্রতিদিন কথা বলার একটা অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। এখন সেই অভ্যাসটাই এক অসহনীয় শূন্যতা। কিন্তু আজ সে নেই — আর আমি শিখতেই পারলাম না কীভাবে তাকে ভুলতে হয়। নিজেকে যতই সংযত রাখার চেষ্টা করেছি, শেষমেশ ব্যর্থ হয়েছি। একদিন সব বাধা ভেঙে সাহস করে লিখে ফেললাম — "তোমার সঙ্গে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে।" কুরবানির ঈদের একদিন পর, মিনিট খানেকের জন্য কথা হলো। মাত্র দু-এক মিনিট! কিন্তু এই সময়টুকু আমার কাছে অমূল্য ছিল। তাকে শুনেছি, তার আওয়াজ শুনেছি — এতেই যেন আমার নিঃশ্বাস ফিরে পেয়েছি। বললাম, "তোমাকে না দেখে শ্বাস নিতে পারি না, ভীষণ কষ্ট হয়। তোমার স্টোরি দেখি, তবুও মন ভরে না — বরং তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এই অনু...

তোমার অভাবে আমি প্রায় নিঃশ্বাসহীন

Image
ঈদ চলে গেছে আজ প্রায় দুই দিন হয়ে গেল। তবুও...তোমার সাথে আর কোনো কথা হয়নি। ঈদের আগের রাতে শুধু একবার "ঈদ মোবারক" বলেছিলাম—সেইটুকুই। যদিও সাড়া পেয়েছিলাম, তবুও জানি, আগে হলে ঈদের দিন হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও সময় করেও অন্তত এক দুই মিনিট কথা হতো, একটা হাসি আদান-প্রদান হতো। এবার তা-ও হলো না। তোমার ফেসবুক স্টোরিতে ঈদের সাজে অনেক ছবি দেখলাম, একের পর এক। কিন্তু কোনো একটা ছবিতে রিপ্লাই দেয়ার সাহস হলো না। মনে হলো—হৃদয়টাকে লোহার শিকলে বেঁধে রেখেছি, না চাইলেও আটকে রেখেছি সব আবেগ, সব ভালোবাসা। একসময় দুচারদিন কথা না বললেই তুমি নিজেই মেসেজ করতে, খোঁজ নিতে। আজ প্রায় দুই মাস—আগের মতো আর মেসেজ আসেনি। জানি, তুমি আমাকে ভালোবাসো না, কখনো হয়তো এমন চিন্তাও আসেনি। তবুও আগে নিয়মিত কথাবার্তা হতো, সুযোগ পেলে দেখা হতো। এখন, তুমি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছো। কিন্তু এতটা পাষাণ, এতটা কঠিন তুমি হয়ে উঠবে—তা কল্পনাতেও ছিল না। আমি এখন যেন নিঃশ্বাসহীন। স্টোরিতে তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে মনে মনে কথা বলি, কথা বলি সেই মানুষের সাথে—যে এখন কেবল স্মৃতির পাতায় বাস করে। মানুষ দূরে যায়, কিন্তু তুমি এতটা দূরে চলে যাবে ভাবিন...

তোমায় দেখেই মুগ্ধ আমি

Image
আমি নই ফুটন্ত সুবাসিত লাল গোলাপ, প্রজাপতির রঙিন ডানায় মুগ্ধতা জাগে না আজকাল। আমি নই নিরব পাহাড়ের সরব ঝর্ণাধারা, পাল তুলে নদী পাড়ি দেওয়া নৌকাও টানে না আর। আমি সুবিস্তৃত সাগরের বিশাল জলরাশি, সবুজে মোড়া দিগন্তজোড়া মাঠেও নেই বিস্ময় আমার। আমি গোধূলি লগ্নে প্রতীচীর রঙে রাঙা সূর্যাস্ত, উষা আলোয় ঝিকিমিকি শিশির কণাও রাখে না স্পর্শ। আমি বসন্তের কুহু ফুলেল সমারোহ নই, পূর্ণিমা রাতে মধুময় চাঁদেও হারাই না মন। আমি কিছুতেই মুগ্ধ হই না... না প্রকৃতির রঙে, না সৌন্দর্যের বিভায়। তবে— আমি অপলক মুগ্ধ হই, কেবল তোমায় দেখে। তোমার শিশুসুলভ ছেলেমানুষি, তোমার দুষ্টু চোখের হাসি, তোমার মায়াবী মুখ, আর সেই মধুর বাক্যধারা— এই সবকিছুতেই ডুবে থাকি আমি, প্রতিনিয়ত, নিঃশব্দে। তুমি যে অনন্য, অদ্বিতীয়, অতুলনীয়— তা আমি জানি… আর জানে আমার হৃদয়ের অন্তর্যামী।

পাব না জেনেও ভালবাসি তারে...

Image
আমি জানি, তাকে কখনোই আর ফিরে পাব না। জানি, সে এখন আমার জীবনের গল্পে নেই, তবুও তার প্রতি এক অদ্ভুত আসক্তি, এক মায়াবী টান যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ে না। তাকে পাব না জেনেও প্রতিদিন নতুন করে তাকে ভালোবেসে ফেলি। তার মুখটা মনে পড়ে, তার হাসিটা চোখে ভেসে ওঠে, আর বুকের ভেতরটা কেমন হাহাকার করে ওঠে। জানি, আমার ভালোবাসা আজও নিঃশব্দ, একতরফা। জানি, সে আর আগের মতো নেই — বদলে গেছে, দূরে চলে গেছে। তবুও কেন জানি না, আমি প্রতিদিন তাকে মিস করি। তাকে না দেখেও তার প্রতিচ্ছবি ঘিরে ধরে আমায়, তার না বলা কথাগুলো কান পাতলেই যেন শুনতে পাই। হয়তো আমি একা, হয়তো আমার অনুভূতিগুলোর কোনো জবাব নেই, তবুও তাকে ভুলতে পারি না। প্রতিদিন ইচ্ছে হয় — একবার যদি দেখা হতো! চুপচাপ তার পাশে বসে থাকতে, এক কাপ কফি হাতে নিয়ে পুরোনো সেই গল্পগুলোর মাঝে হারিয়ে যেতে। সেই চেনা চোখে আবার একবার তাকাতে, জানতে ইচ্ছে করে, সে কি এখনো মনে রাখে আমাদের শূন্য দুপুরগুলোকে? সে কি এখনো মনে রাখে সেই না বলা অনুভূতিগুলোকে? কিন্তু সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে — সে বদলে গেছে। কতদিন তার মুখ দেখিনি, তার কণ্ঠ শুনিনি, তার সাথে গল্প হয়নি। তবুও আমার ভেতরের আমি আ...

একতরফা প্রেম এবং অসমাপ্ত গল্প

Image
ভালবাসা… শব্দটি ছোট হলেও এর অনুভব আকাশসম। কারো জীবনে আসে পূর্ণতা নিয়ে, আবার কারো জীবনে রেখে যায় এক গভীর না-পাওয়ার মরমি দাগ। আমার জীবনেও সে এসেছিল—সুন্দর এক মায়ার মতো। কিন্তু সে ভালোবাসা ছিল ক্ষণিকের অতিথি, তবু রয়ে গেছে সারাজীবনের স্থায়ী আবেগ হয়ে। তাকে আমি ভালোবেসেছিলাম এমনভাবে, যেন পুরো পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য হার মানে তার একটুখানি হাসির কাছে। তার কথা, চোখের চাহনি, মুখভঙ্গি—সব কিছুতেই ছিল এক অভাবনীয় মাধুর্য। আমার কল্পনার নারীর প্রতিটি ছায়া যেন তার মধ্যেই বাস্তব হয়ে ফুটে উঠেছে। তার সাথে কথাবার্তা ছিল সীমিত, চ্যাটেও খুব বেশি নয়। তবু হৃদয়ের ভাষা তো আর শব্দের অপেক্ষা করে না। একদিন বলেছিলাম, “চলো দেখা করি।” সে রাজি হলো। বৈশাখী মেলায় প্রথম সাক্ষাৎ হবে—এই সিদ্ধান্ত। বলেছিলাম, “এত ভিড়ের মাঝে তোমাকে খুঁজে পাব কীভাবে?” সে এক রহস্যময় হাসি দিয়ে বলেছিল, “এই তো তোমার প্রথম পরীক্ষা।” অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—যখন আমি তার খোঁজে হাল ছেড়ে দিতে চাইছিলাম, তখন সে-ই আমার সামনে এসে দাঁড়াল। যেন আমার সব প্রশ্নের এক জীবন্ত উত্তর। তাকে প্রথম দেখে মনে হয়েছিল, সৃষ্টিকর্তা যেন সময় নিয়ে, ভালোবেসে, সমস্ত সৌন্দর্যের ছাঁচে ...