তার অপেক্ষায়...

বেশ কিছুদিন তার সঙ্গে আর কথা হয় না, দেখা তো দূরের কথা — আসলে হবার কথাও না।
তবুও মনটা বারবার আনচান করে, খুব করে কথা বলতে ইচ্ছে করে।
যখন কারও মায়ায় পড়ে যাই, তখনই বোঝা যায়—তার সঙ্গে কথা বলতে না পারাটা কতটা কষ্টের, কতটা দুঃসহ।

আমি জানি, ভালোবাসা কাকে বলে, সেটা আমি তার কাছ থেকেই শিখেছিলাম।
সে খুব যত্ন করে ভালোবাসতে শিখিয়েছিল — তার মায়াবী আচরণ, নরম স্বর, মুগ্ধ করা চোখের চাহনি আমাকে আসক্ত করে তুলেছিল।
প্রতিদিন কথা বলার একটা অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। এখন সেই অভ্যাসটাই এক অসহনীয় শূন্যতা।
কিন্তু আজ সে নেই — আর আমি শিখতেই পারলাম না কীভাবে তাকে ভুলতে হয়।

নিজেকে যতই সংযত রাখার চেষ্টা করেছি, শেষমেশ ব্যর্থ হয়েছি।
একদিন সব বাধা ভেঙে সাহস করে লিখে ফেললাম —
"তোমার সঙ্গে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে।"

কুরবানির ঈদের একদিন পর, মিনিট খানেকের জন্য কথা হলো।
মাত্র দু-এক মিনিট! কিন্তু এই সময়টুকু আমার কাছে অমূল্য ছিল।
তাকে শুনেছি, তার আওয়াজ শুনেছি — এতেই যেন আমার নিঃশ্বাস ফিরে পেয়েছি।

বললাম,
"তোমাকে না দেখে শ্বাস নিতে পারি না, ভীষণ কষ্ট হয়।
তোমার স্টোরি দেখি, তবুও মন ভরে না — বরং তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
এই অনুভব ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
আচ্ছা, মাস দু-এক পরেও কি দেখা করা যাবে না? কফি খেতে খেতে গল্প করা যাবে না?"

সে খুব সোজা একটা উত্তর দিল—
"না।"
তার চোখে বাস্তবতা, চিন্তার পরিণতি। বলল—
"দেখা হলে কথা হবে, মায়া বাড়বে, সম্পর্ক গভীর হবে। বরং যখন দূরত্ব বাড়ানো শুরু করেছি, তখন একেবারেই বাড়িয়ে দেওয়া ভালো।"
তার কথায় যুক্তি আছে। সে ভয় পায়—আমারও সামাজিক ভয় কিছুটা তো আছেই। কেউ দেখে ফেললে, জেনে ফেললে, আমাদের জীবনে মহাবিপদ নেমে আসতে পারে।
সে চায় না আমাদের কারণে কোনো ‘কেয়ামত’ হোক।

আমি তার এই ভাবনাকে সম্মান করি। কিন্তু আমার এই অবুঝ মনকে কিভাবে বুঝাই?
সে জানে, আমি তাকে এখনো কতটা ভালোবাসি।
হয়তো এখন আগের মতো পাগলামি করি না, কিন্তু ভালোবাসাটা একটুও কমেনি।

ভালো লাগা এক ধরনের মায়া, এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা।
মানুষ অজান্তেই হারিয়ে যায় অন্যের চোখে, কথায়, বা এক ঝলক উপস্থিতিতে।
এই বিষ একবার পান করলে আর ফিরে আসার পথ থাকে না।
তবুও ইচ্ছে করে—আবার সেই বিষ পান করতে।

ভালোবাসা এক ধরনের আত্মঘাতী সাহস।
নিজেকে নিঃস্ব করে দেওয়ার মতো এক অপূর্ব সৌন্দর্য, যা কেবল প্রেমিক মনই বোঝে।
আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি নিজেকে সরিয়ে নিতে।
কিন্তু কারও মায়ায় পড়ে গেলে, নিজেকে ফেরানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ফোনে কথা বলার সময় জিজ্ঞেস করলাম—
"তোমাকে না দেখে থাকতে পারছি না, কী করব?"
সে শান্তভাবে বলল—
"আমাকে ব্লক করে দাও। তাহলে আর দেখতে পাবে না, টানটাও আসবে না।"

বললাম—
"না... পুরো কায়েনাত ধ্বংস হয়ে যাক, তবুও আমি তোমাকে ব্লক করতে পারব না।
তোমাকে দেখে আমি নিশ্বাস নেই।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম—
"তুমি পারবে আমাকে ব্লক করতে?"
সে বলল—
"আপনি অনুমতি দিলে, চেষ্টা করব..."

তার সেই কথায় মনে হলো, যদি এই মুহূর্তে তাকে আলিঙ্গন করতে পারতাম!
জীবনে অনেক মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে, সম্পর্ক হয়েছে,
একটু মতের অমিলেই অনেকেই ব্লক করে দিয়েছে।

কিন্তু সে...
সে একেবারে অন্যরকম — তার চোখে, কথায়, আচরণে এত মায়া, দরদ, শ্রদ্ধা!
আর এই শ্রদ্ধাবোধটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি দুর্বল করে ফেলে।

আমি বিশ্বাস করি—
একদিন, হঠাৎ কোনো মন খারাপের সন্ধ্যায়, সে ফোন করবে।
বলবে—
"চলো, কফি খাই, গল্প করি..."
আর আমি প্রাণভরে তাকে দেখব,
কফিতে চুমুক দিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে আবার নতুন করে গড়ে নেব।

তাকে ছাড়া বেঁচে থাকাটা কল্পনায়ও আসেনি,
আর কোনোদিন আসবেও না।

তাকে ভালোবাসি — আজ, আগামীকাল, চিরকাল।
যদিও সে আমার থেকে যোজন যোজন দূরে...
তবুও সে আমার একান্ত আপন।

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বাস থেকে অবিশ্বাস

একতরফা প্রেম এবং অসমাপ্ত গল্প