একতরফা প্রেম এবং অসমাপ্ত গল্প
ভালবাসা… শব্দটি ছোট হলেও এর অনুভব আকাশসম। কারো জীবনে আসে পূর্ণতা নিয়ে, আবার কারো জীবনে রেখে যায় এক গভীর না-পাওয়ার মরমি দাগ। আমার জীবনেও সে এসেছিল—সুন্দর এক মায়ার মতো। কিন্তু সে ভালোবাসা ছিল ক্ষণিকের অতিথি, তবু রয়ে গেছে সারাজীবনের স্থায়ী আবেগ হয়ে।
তাকে আমি ভালোবেসেছিলাম এমনভাবে, যেন পুরো পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য হার মানে তার একটুখানি হাসির কাছে। তার কথা, চোখের চাহনি, মুখভঙ্গি—সব কিছুতেই ছিল এক অভাবনীয় মাধুর্য। আমার কল্পনার নারীর প্রতিটি ছায়া যেন তার মধ্যেই বাস্তব হয়ে ফুটে উঠেছে।
তার সাথে কথাবার্তা ছিল সীমিত, চ্যাটেও খুব বেশি নয়। তবু হৃদয়ের ভাষা তো আর শব্দের অপেক্ষা করে না। একদিন বলেছিলাম, “চলো দেখা করি।” সে রাজি হলো। বৈশাখী মেলায় প্রথম সাক্ষাৎ হবে—এই সিদ্ধান্ত।
বলেছিলাম, “এত ভিড়ের মাঝে তোমাকে খুঁজে পাব কীভাবে?”
সে এক রহস্যময় হাসি দিয়ে বলেছিল, “এই তো তোমার প্রথম পরীক্ষা।”
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—যখন আমি তার খোঁজে হাল ছেড়ে দিতে চাইছিলাম, তখন সে-ই আমার সামনে এসে দাঁড়াল। যেন আমার সব প্রশ্নের এক জীবন্ত উত্তর। তাকে প্রথম দেখে মনে হয়েছিল, সৃষ্টিকর্তা যেন সময় নিয়ে, ভালোবেসে, সমস্ত সৌন্দর্যের ছাঁচে গড়ে তুলেছেন তাকে। আমি শুধু মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে ছিলাম, বাকরুদ্ধ, থমকে যাওয়া এক মুহূর্তে।
বলেছিলাম, “যদি তোমার আমার অবস্থান যদি অনুকূল হতো, আমি আজই মেলার স্টেজে উঠে ঘোষণা দিতাম—‘সনিয়া, আজ থেকে তোমার সমস্ত দায়িত্ব আমার। চলে এসো আমার জীবনে…’”
সে শুনে হেসেছিল। জানতাম কথাটি হয়তো অবাস্তব, কিন্তু তার চোখে সেই মুহূর্তে যে আলো দেখেছিলাম—তা ছিল নির্মল ভালোলাগার।
সেই মুহূর্ত থেকেই মনে হলো—হ্যাঁ, এই মেয়েটির সঙ্গে আমার জীবনের গল্পটা জমবে।
এরপর কেটে গেছে কিছুদিন—কফিশপে আড্ডা, গল্প, নিরব চাহনি আর অনেক না বলা কথা। আমি তার প্রতিটি বাক্য শুনতাম নিবিষ্ট মনে, তার চোখের ভাষা পড়তাম একান্তে। যতবার তাকিয়েছি, মনে হয়েছে—এ চোখের গভীরতা মাপার কোনো উপায় নেই।
একবার আমরা গিয়েছিলাম নদীর পাড়ে হেঁটে বেড়াতে। সে সেদিন শাড়ি পরে এসেছিল—স্নিগ্ধতা আর সৌন্দর্যের এক অপার রূপ। মনে হয়েছিল, আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নারীকে দেখছি। কী পরিপাটি, কী সাবলীল, কী মনকাড়া তার উপস্থিতি! আমি শুধু তাকিয়েই থেকেছি—নিঃশব্দে, মুগ্ধতায়।
সে যখন শাড়ি পরে, মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য তার পায়ের কাছে প্রণাম জানায়। বাতাস থেমে যায়, আলো তার গায়ে আলতো ছুঁয়ে থাকে, আর আমি নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকি—নিঃশ্বাস আটকে আসে।
আর যখন সে হাসে—সে হাসিতে কোনো কৃত্রিমতা নেই, নেই কোনো বাড়াবাড়ি—স্রেফ এক নির্লিপ্ত কোমলতা। সেই হাসি যেন আমার সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে নিয়ে যায়, আমার প্রাণ জুড়িয়ে যায় এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে। আমি ভাবতাম, মানুষ এত সুন্দরভাবে হাসতেও পারে—এ যেন আগে কোনোদিন চোখে পড়েনি।
সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা আমাকে প্রতিনিয়ত আবেগতাড়িত করত, তা হলো—সে কখনোই আমার কোনো অনুরোধ ফিরিয়ে দিত না। হয়তো ভালোবাসা ছিল না, কিন্তু ছিল এক গভীর শ্রদ্ধা, এক নিঃস্বার্থ সম্মান। সে আমাকে গুরুত্ব দিত, গুরুত্ব দিত আমার আবেগকে।
আর আমি? আমি কখনোই সেই সম্মানের অমর্যাদা করিনি। পারবও না। তার প্রতি আমার ভালোবাসা যেমন নিঃস্বার্থ, তেমনি শ্রদ্ধার ভিতও ছিল গভীর।
সে গিফট নিতে বিশেষ পছন্দ করত না। বলত, সম্পর্কের আসল মাপকাঠি উপহার নয়—মানসিক বোঝাপড়া। তবু আমি জানি, তাকে কিছু দিতে পারলে আমার নিজেরই ভালো লাগত। তাই প্রায়ই আমি জোর করেই ছোটখাটো কিছু দিয়ে ফেলতাম।
একদিন ভাবলাম, ওর বাসার দিকে যাচ্ছি—কিছু একটা সঙ্গে নিয়ে যাই। তবে উপহারের চেয়ে অনেক বড় ছিল তাকে দেখা—তার মুখে এক ঝলক হাসি দেখা, দু’চোখ ভরে তাকে একবার দেখে নেয়া। সেটাই ছিল আমার আসল উদ্দেশ্য।
সেদিন সে যখন দেখা করে বাসার দিকে ফিরছিল, খোদার কসম, আমার চোখের সামনে যেন এক অনন্ত সৌন্দর্য হেঁটে যাচ্ছিল। কীভাবে বোঝাই—সে মুহূর্তে তাকে দেখে আমার হৃদয় কীভাবে ধ্বনিত হয়েছিল! ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই সম্ভব নয়।
তাকে দেখার পর আমার হৃদয়ের ভিতরটা এমন এক আবেগে ভরে উঠেছিল, যা মুখে বলা যায় না—শুধু অনুভব করা যায়।
পরে হয়তো মেসেজে শতবার বলেছি তাকে—কতটা ভালোবাসি, কতটা মুগ্ধ আমি তার প্রতিটি উপস্থিতিতে। কিন্তু সত্যি বলতে, কোনো শব্দই যথেষ্ট ছিল না। আমার সমস্ত চাওয়াই যেন সীমাবদ্ধ ছিল একটাই ব্যাপারে—তাকে দেখার, তাকে অনুভব করার, আর নিঃশব্দে ভালোবাসার।
বাসায় এসে তাকে অনুরোধ করেছিলাম—আজ যেভাবে দেখেছি তোমাকে, ঠিক তেমনভাবে একটা ছবি দিতে পারবে?
সে না করেনি, পাঠিয়েছিল। জানতাম, শুধু আমার অনুরোধ ফেলতে চায়নি। আমাকে কষ্ট দিতে চায়নি। এই যে তার নিঃশব্দ সম্মান—আমার প্রতি তার যত্নশীল ব্যবহার, এইখানেই সে আমার কাছে অমূল্য হয়ে উঠেছিল।
আর এই সম্মানটাই আমার ভালোবাসাকে শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
আমি বিশ্বাস করি—একজন পুরুষ, একজন নারীর কাছে তিনটি জিনিস চায়—সম্মান, মানসিক শান্তি, আর ইন্দ্রিয়তৃপ্তি। তবে শেষেরটি আমার কাছে কখনোই অপরিহার্য মনে হয়নি। আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল তার কাছ থেকে পাওয়া সেই নীরব সম্মান, সেই হৃদয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা।
তার চেহারায় ছিল এক অদ্ভুত মায়া—যেন বহু জন্মের চেনা কোনো আত্মা আবার ফিরে এসেছে এই জীবনে। তাই আমি তাকে নাম দিয়েছিলাম "মায়াবতী"।
তবে তার শাড়ি পরা রূপে তাকে আমার মনে হতো ঠিক যেন কোনো স্কুলের কঠোর অথচ মমতাময়ী ম্যাডাম। তাই মায়ার গভীরতা থেকেও তাকে ডাকতাম "ম্যাডাম" বলে।
সে আমাকে বুঝিয়ে বলত, "এই বয়সে এইসব পাগলামি মানায় না, সবকিছুর একটা সময় থাকে..."
আমি শুনতাম বটে, কিন্তু আমল দিতাম না। বলতাম না মুখে, কিন্তু জানতাম—প্রেমের নিয়ম মন মানে না। মন তো একেক সময় একেবারে ছোট্ট বাচ্চা—যার বারণ শুনতে ভালো লাগে না, আর প্রেমে পড়লে সে তো একেবারেই দুরন্ত।
আমার এইসব পাগলামির জন্য সে আমাকে আদর করে ডেকেছিল "পাগলা বেটা" নামে। তবে মজার ব্যাপার—তবুও সে আমাকে সম্বোধন করত "বস" বলে।
এই দ্বৈততার মাঝেই ছিল এক আশ্চর্য ভালোবাসা, এক নীরব বন্ধন—যা এখনো আমার হৃদয়ের গভীরে রয়ে গেছে অক্ষয় হয়ে।
দীর্ঘ তিন বছরের চেনা-অচেনার সম্পর্ক পেরিয়ে, অবশেষে একদিন সুযোগ পেলাম তাকে নিয়ে লং ড্রাইভে যাওয়ার। দিনটি ছিল ২৪ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। আজও সেই তারিখ আমার হৃদয়ে সোনালি অক্ষরে লেখা।
সেই দিনটিই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের, সবচেয়ে প্রিয় দিন। সূর্য তখন একটু নরম, বাতাসে ছিল এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ। আমি আর সে—এক গাড়িতে, সুর ভরা গান, নির্জন পথ, আর আমাদের দু’জনের গল্পে গল্পে হারিয়ে যাওয়া।
সেদিন কেনভি আইল্যান্ডে সাগরের ঢেউয়ের মতোই আমাদের গল্পও বয়ে চলে ধীরে ধীরে।
নিরবতার মাঝে হাত ধরে হাঁটার অনুভূতিটাই যেন সবচেয়ে জোরালো ভাষা।
না বলা হাজার কথার মাঝে, শুধু তোমার হাতের উষ্ণতা বোঝায়—আমি একা নই।
সাগরের বিশালতা যেমন সীমাহীন, তেমনি ভালোবাসাটাও যেন অসীম হয়ে যায় এই পথ চলায়।
সেদিন ছিল না কোনো গন্তব্য, ছিল শুধু আমরা...
হাত ধরা, চোখে চোখ রাখা, আর কিছু না বলেও সব বলা।
তারপর?
তারপরও আমরা—একসাথে, একপথে বাড়ি ফেরা...।
২৪ এপ্রিলের সেই স্বপ্নময় দিনের পর হঠাৎ করেই যেন সবকিছু বদলে যেতে শুরু করল।
কথায় আগের মতো উচ্ছ্বাস ছিল না, মেসেজে আগ্রহের উষ্ণতা কমে যাচ্ছিল, এমনকি হাসির মধ্যেও যেন এক চাপা ক্লান্তি লুকিয়ে থাকত।
আমি অনুভব করছিলাম—সে ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে।
কোনো কিছু স্পষ্ট করে বলছিল না, তবুও তার আচরণ বুঝিয়ে দিচ্ছিল—ভালোবাসার সেই আলোয় এক বিষণ্ন ছায়া নেমে এসেছে।
আমি নিশ্চিত হতে পারছিলাম না—তাকে কি কেউ কিছু বলেছে? নাকি সে নিজের ভেতরেই একটা দ্বন্দ্বে ভুগছে? হয়তো তার আত্মউপলব্ধি, পারিবারিক চাপ, কিংবা সমাজের চোখ—কিছুই পরিষ্কার বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
তবু আমি আশা ছাড়িনি। প্রতিটি মেসেজে আমি তাকে বুঝাতে চেয়েছি—আমি এখনো আগের জায়গাতেই আছি, আগের মতোই ভালোবাসি, আগের চেয়েও বেশি।
দূরত্বটা যখন বাড়তেই থাকল, আমি ক্রমশ দিশেহারা হয়ে পড়লাম। দেখা করার জন্য যেন এক অবর্ণনীয় আকুলতা তৈরি হয়েছিল—মনে হচ্ছিল, বুকের ভেতর থেকে নিঃশ্বাস আটকে আসছে, শুধু একবার... মাত্র একবার যদি দেখা করতে পারতাম।
কিন্তু সে এক মিনিটের জন্যও সময় দিল না।
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলাম—এই সেই মায়াবতী, যে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে সব কথা বুঝে নিত!
তাকে কাছে পেতে চাইছিলাম, অথচ সে যেন নিজেই তৈরি করছে এক অদৃশ্য দেয়াল।
এক সময় সমস্ত দ্বিধা ভেঙে আমি সাহস করে তার বান্ধবী লোপার কাছে মেসেঞ্জারে বললাম।
ভালোবাসা তো শুধু নিজের ভেতর ধরে রাখার নয়—আমি বুঝাতে চেয়েছিলাম, আমি আজও সেই আগের মানুষটাই, যাকে সে একদিন মেলার ভিড়ে খুঁজে নিয়েছিল।
আমি বলেছিলাম—
> "তুমি নিশ্চয়ই জানো, তোমার বান্ধবীকে পাওয়ার জন্য গত তিন বছর ধরে আমি তার পিছু ঘুরে বেড়াচ্ছি। তবু কোনো পাত্তা পাইনি।
গত বৃহস্পতিবার তাকে নিয়ে একসাথে লং ড্রাইভে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা আবার গাঢ় হবে। কিন্তু ফেরার পর থেকেই কেমন যেন বদলে গেছে সে।
তোমার কাছ থেকে আমি একটু সাহায্য চাই, যদি সামান্যতমও করতে পারো, আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।"
এতটুকুই বলেছিলাম—না অভিযোগ, না অনুরোধের অতিরঞ্জন।
শুধু একজন মানুষের জন্য, যে আমার জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাসে জায়গা করে নিয়েছিল—তার জন্য আরেকজনের কাছে কিছুটা আশ্রয় চেয়েছিলাম।
লোপা পরদিন ভোরে পরামর্শ দিলো—
> "হ্যাঁ আমি জানি তোমরা গিয়েছিলে। তোমরা আরও বেশি সময় কাটাতে চেষ্টা কর, বাইরে যাও এবং কথা বল।
ব্যস, এর থেকে বেশি কিছু আমি বলিনি সেও বলেনি।
লোপার কাছে বলার পর থেকে এক অজানা অপরাধবোধ আমাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেতে লাগল।
প্রতিটা মুহূর্তে ভাবতাম—"আমি কি ভুল করেছি? আমার বলা কথাগুলো লোপা কীভাবে নিয়েছে?"
সে কি আমাকে ছোট ভাববে?
সে কি সোনিয়াকে গিয়ে এমন কিছু বলবে, যা আমি বলিনি?
আর সোনিয়া যদি এটা জানে, সে কি আমাকে ভুল বুঝবে?
এই সব প্রশ্নের ভিড়ে আমি একরকম মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলাম।
হয়তো আমি চুপ থাকলেই পারতাম,
হয়তো কিছু না বলেই অপেক্ষা করতে পারতাম সোনিয়ার সিদ্ধান্তের জন্য...
তবুও অনেক ভেবেচিন্তে একদিন সাহস করে সব সোনিয়াকেই বলে ফেললাম।
চিন্তা করলাম—"আজ না বলি, কাল তো জেনেই যাবে। বরং আগে থেকে বলাটাই ভালো।"
যা হবার হবে, আল্লাহ ভরসা।
আমি বলেছিলাম খুব সরলভাবে—
"তোমার কথা লোপার সঙ্গে কিছুটা বলেছি। তার কাছে একটু সাহায্য চেয়েছিলাম। শুধু এটুকুই। কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম না, তোমার আচরণ কেন বদলে যাচ্ছে। আমি কাউকে খারাপ বলতে যাইনি, শুধু তোমাকে হারানোর ভয় থেকেই বলেছিলাম।"
এই কথা বলার সময় ভেতরে যে কাঁপুনি কাজ করছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
কারণ আমি জানতাম—ভালোবাসা খুব সূক্ষ্ম একটা জায়গা, যেখানে আস্থা ভাঙতে সময় লাগে না।
~~~ ভুলের দায়, নীরব বিচ্ছেদ~~~
কথাগুলো শুনে একে একে ধাক্কা মারছিল তাঁর হৃদয়ের প্রতিটি কোণে।
> "What??? কি বললে তুমি?
কাজটা একদম ঠিক করোনি। একেবারে বাচ্চাদের মতো কাজ করেছো।
কাউকে অনুরোধ করে কি প্রেম-ভালবাসা হয়?
তুমি কেন তাকে বলতে গেলে?"
আমি যেন বোবা হয়ে গিয়েছিলাম। এক মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল, সবকিছু যেন ভেঙে পড়ছে আমার চারপাশে।
আমি কিছুই বলার মতো অবস্থায় ছিলাম না।
আমার মাথায় ঘুরছিল—"আমি কী করলাম?"
হ্যাঁ, এটা আমার ভুল। একটা বড় ভুল।
কাউকে দিয়ে বলিয়ে প্রেম হয় না, হয় না কোনো অনুভূতির প্রতিস্থাপন।
ভালোবাসা তো আত্মার সাড়া, সেটা বাহ্যিক কোনো কথায় গড়ে ওঠে না।
আমি অসংখ্যবার ক্ষমা চেয়েছি তার কাছে।
মেসেজে শুধু একটি শব্দ লিখেছিল—“It’s OK”
কিন্তু সেই OK এর ভেতরে একরাশ ক্ষোভ, একরাশ বেদনা জমা ছিল।
আমি বুঝে গিয়েছিলাম—সেই ছোট্ট শব্দটার আড়ালে ছিল চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার চিহ্ন।
সেদিন থেকে আর কোনো রিপ্লাই আসেনি।
আমি ভয়ে-লজ্জায় আর মেসেজও পাঠাতে পারিনি।
শুধু প্রতিদিন ইনবক্সের দিকে তাকিয়ে থেকেছি— হয়তো একটিবার পড়বে, হয়তো একটিবার উত্তর দেবে...
কিন্তু না, কিছুই আসেনি।
আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।
কথা বলার সাহস তো দূরের কথা, মনে হতো তার চোখের সামনে পড়লেই হয়তো সে ঘৃণা করবে আমাকে।
আমি জানতাম, আমার ভুলের শাস্তি এই নীরবতা—
আর এই নীরবতা যেন সবচেয়ে দীর্ঘ ও ভয়ংকর বিচ্ছেদ।
সেদিনের পর থেকে আজ অবধি তার সাথে আর কোনো কথা হয়নি।
না কোনো দেখা, না কোনো বার্তা।
কখনো ভাবি—আবার কি দেখা হবে? আবার কি কিছু বলার সুযোগ হবে?
মনে মনে হাজারবার বলেছি নিজেকে—“ভুলে যা”
কিন্তু মন তো বোঝে না, মনের যে কোনো যুক্তি নেই...
আমি নিজেকে গুটিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি।
বন্ধুরা ডাকে, পরিবার টানে, কাজ ব্যস্ত রাখে—তবু রাতে একাকী মুহূর্তে সবকিছু ভেঙে পড়ে আবার।
আমার মধ্যে একটাই উপলব্ধি জন্মেছে—
সম্পর্ক জোর করে টিকে না।
একটা সম্পর্ক গড়তে লাগে দুইজনের সম্মতি, দুইজনের চাওয়া।
একতরফা ভালোবাসা একটা সময় কেবল স্মৃতি হয়ে পড়ে থাকে, জীবনের গভীর কোণে।
আমার যে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়, জানো কী?
আমি তাকে বলতাম—
> “তুমি আমার অক্সিজেন। তোমাকে দেখলেই আমি শ্বাস নিতে পারি।”
আজ মনে হয়, আমি বিনা অক্সিজেনে হাঁটছি, চলছি, বেঁচে আছি এক অসম্পূর্ণতা নিয়ে।
হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাব
কোনো এক দূর অজানায়,
যেখানে সে নেই,
শুধু তার স্মৃতিগুলো নিঃশব্দে বেঁচে আছে আমার শ্বাসে, আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
Comments
Post a Comment